সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শেষ বেঞ্চের প্রতিজ্ঞা



🌸 "শেষ বেঞ্চের প্রতিজ্ঞা"

                                           ✍️সোনাবিদ

কলেজের প্রথম দিনটা ছিল রৌদ্রহীন, কিন্তু তবুও বাতাসে এক অজানা উত্তেজনা।

অভ্র তখন সবে কলেজে ভর্তি হয়েছে— বিজ্ঞান বিভাগে।
চুপচাপ, বইপ্রেমী এক ছেলে। ক্লাসে ঢুকেই শেষ বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়ল।

সেদিনই প্রথম ওর দেখা হয় তৃষার সঙ্গে।
তৃষা ক্লাসের সবচেয়ে প্রাণবন্ত মেয়ে— হাসলেই চারপাশে আলো ছড়িয়ে যায় যেন।
তৃষা সামনে বসে, কিন্তু বারবার পেছন ফিরে তাকাত— কারণ অভ্রর চোখে ছিল কিছু একটা, একধরনের শান্ত আকর্ষণ।

দু’জনের পরিচয় শুরু হয় একটা নোট ধার দেওয়ার মাধ্যমে।
তারপর দিন পেরিয়ে যায়, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
গ্রুপ প্রজেক্টের অজুহাতে দেখা, লাইব্রেরির আড়ালে কথা, আর ল্যাবের টেস্টটিউবের আড়ালে লুকানো মিষ্টি দৃষ্টি—
ভালোবাসাটা যেন নিজে থেকেই জন্ম নেয়।

একদিন তৃষা বলে,

“অভ্র, তুই যদি একদিন কলেজ না আসিস, ক্লাসটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে।”
অভ্র শুধু মুচকি হেসে বলে,
“আমি তো শেষ বেঞ্চেই থাকি, তবুও তুই আমার অভাব বুঝিস?”
তৃষা উত্তর দেয়নি। কিন্তু চোখ দুটো অনেক কিছু বলে দিয়েছিল।

দু’জনের গল্প ধীরে ধীরে ভালোবাসার রঙ নেয়।
কিন্তু ঠিক তখনই আসে বোর্ড পরীক্ষার সময়।
তৃষার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে, আর তৃষা কলেজ থেকে ছুটি নেয়।
অভ্র প্রতিদিন কলেজে আসে, সেই শেষ বেঞ্চে বসে থাকে — খালি জায়গাটায় তাকিয়ে।

পরীক্ষা শেষ, ফলাফল বেরোয় — অভ্র প্রথম, কিন্তু তৃষা আসে না।
সে শুধু একটি চিঠি পাঠায় কলেজের পোস্টবক্সে —

“শেষ বেঞ্চের ছেলেটা,
আমি প্রতিদিন তোর পাশেই বসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভাগ্য সেটা চায়নি।
মা এখন হাসপাতালে, আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি চিকিৎসার জন্য।
ফিরে এলে যদি দেখা হয়, সেই বেঞ্চটা আবার তোর পাশে থাকুক।
— তৃষা”

অভ্র আজও কলেজের পুরনো বিল্ডিংয়ে যায়,
শেষ বেঞ্চে বসে, আর বলে —

“তৃষা, তুই না এলেও, এই বেঞ্চটা এখনো তোর অপেক্ষায় আছে…”


গল্পটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ ❤️ 

পরের পর্ব পড়তে সোনাবিদে যুক্ত থাকুন। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নিঃস্বার্থ প্রেম

নিঃস্বার্থ প্রেম শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা ক্যাফে। ভেতরে নরম হলুদ আলো, চারপাশে গুনগুন করে বাজছে সুরেলা সংগীত। জানালার ধারে বসে আছে অরণি। তার হাতের কফিটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, কিন্তু সে খেয়ালই করেনি। চোখ দুটি স্থির হয়ে আছে ক্যাফের দরজার দিকে। হঠাৎ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো শুভ। বহু বছর পর দেখা, অথচ মনে হলো যেন এই তো সেদিন শেষবার কথা হয়েছিল। শুভর মুখে হাসি, হাতে একটা উপহার। —"অরণি! কেমন আছো?" অরণি একটু হাসলো, সেই চিরচেনা মায়াভরা হাসি। —"ভালো। তুমি?" শুভ বসে পড়লো তার সামনে। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকলো, যেন হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনে। প্রথম পরিচয় অরণি আর শুভর প্রথম দেখা কলেজের ক্লাসরুমে। শুভ ছিল শান্ত, ভদ্র, আর একদম সিরিয়াস ধরনের ছেলে। আর অরণি? সে ছিল পুরো উল্টো—সবসময় চঞ্চল, হাসিখুশি। প্রথম দিনই দুইজনের একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। শুভ ভেবেছিল, অরণি একটু বেশি বাচাল। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারলো, এই মেয়েটার ভেতরে আছে অদ্ভুত এক উষ্ণতা, একরকম আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা। বন্ধুত্ব গভীর হতে বেশি সময় লাগেনি। ক্লাসের পরে লাইব্রেরিতে বসে পড়া, ক্যান্টিনে একসঙ্গে চা খাওয়া, কলেজের প্রাঙ্...

শেষ বেঞ্চের প্রতিজ্ঞা — পর্ব ২

🌧️  শেষ বেঞ্চের প্রতিজ্ঞা — পর্ব ২ : ফিরে আসা                                                               ✍️ সোনাবিদ তি ন বছর কেটে গেছে। কলেজ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে, নতুন ভবন, নতুন মুখ— কিন্তু সেই পুরনো শেষ বেঞ্চটা এখনো আছে, ঠিক আগের জায়গায়। অভ্র এখন স্নাতক শেষ বর্ষে। চুপচাপ, আগের মতোই। বন্ধুরা মজা করে বলে, “তুই এখনো ওর জন্য অপেক্ষা করছিস?” অভ্র শুধু হাসে, কোনো উত্তর দেয় না। কারণ উত্তরটা সে জানে — তৃষা তার জীবনের অসমাপ্ত কবিতা। একদিন বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সেমিনার চলছিল। অভ্র বই হাতে করিডোর দিয়ে হাঁটছিল, হঠাৎ করেই এক কণ্ঠ শুনল — “Excuse me... আপনি কি অভ্র?” অভ্র ঘুরে দাঁড়াল। সামনে তৃষা । কিন্তু আগের সেই উচ্ছল তৃষা নয় — আজ তার চোখে এক গভীর শান্তি, আর ঠোঁটে ম্লান হাসি। অভ্রর বুক কেঁপে উঠল। “তৃষা... তুই?” তৃষা মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ অভ্র, ফির...