ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন
(পর্ব ২: হৃদয়ের ভাষা)
১
স্কুলজীবনের দিনগুলো যেন রাফি আর রূপার জন্য স্বপ্নের মতো কাটছিল। তারা একসঙ্গে ক্লাস করত, একসঙ্গে পড়ত, লাইব্রেরিতে পাশাপাশি বসে গল্পের বই পড়ত। বন্ধুত্বের সীমা কখন যে ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে, তারা বুঝতেও পারেনি।
একদিন বিকেলে স্কুল ছুটির পর রূপা গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে যেন কেমন একটা দ্বিধা। রাফি খেয়াল করল।
— "কি হলো? কোথাও যেতে হবে?"
রূপা একটু ইতস্তত করে বলল,
— "একটা কথা বলব, রাফি..."
রাফি থমকে গেল। রূপার কণ্ঠস্বরে অদ্ভুত এক আবেগের ছোঁয়া।
— "বলো।"
রূপা একটু হেসে বলল,
— "আমাদের স্কুলজীবন শেষ হওয়ার পর... মানে, আমরা কি তখনও এমন থাকব?"
রাফি একটু অবাক হলো।
— "মানে?"
— "মানে, আমরা কি তখনও বন্ধু থাকব? নাকি... এর চেয়েও বেশি কিছু?"
এই প্রথমবার রূপার মুখ থেকে সরাসরি এমন কথা শুনল রাফি। সে জানত যে তার নিজের হৃদয়ের গভীরেও একই অনুভূতি আছে। কিন্তু বলার সাহস কখনও হয়নি।
সে ধীরে ধীরে বলল,
— "আমি জানি না ভবিষ্যৎ কী হবে। কিন্তু আমি জানি, আমি চাই তুমি সবসময় আমার পাশে থাকো।"
রূপা ম্লান হেসে বলল,
— "আমি থাকব... যদি তুমিও থাকতে চাও।"
রাফি হেসে বলল,
— "তাহলে ঠিক আছে।"
সেদিনের পড়ন্ত বিকেলের লালচে আকাশের নিচে তাদের এই ছোট্ট প্রতিজ্ঞা হয়তো একটা নতুন গল্পের শুরু হয়ে গেল।
২
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। কেউ কাউকে সরাসরি ‘ভালোবাসি’ বলেনি, কিন্তু চোখের ভাষাতেই সব বোঝা যেত।
স্কুলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন, রূপা একটি কবিতা আবৃত্তি করবে। কিন্তু মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে সে একটু নার্ভাস হয়ে গেল। রাফি দর্শকসারিতে বসে ছিল। রূপা মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ তার চোখ পড়ল রাফির দিকে।
রাফি মৃদু হাসল এবং চোখের ইশারায় বলল, "তুমি পারবে!"
সেই ছোট্ট ভরসার স্পর্শ যেন রূপার মনে সাহস এনে দিল। সে আবৃত্তি শুরু করল—
"আমার ভালোবাসা নিও না দূরে সরিয়ে,
চোখের ভাষায় লুকিয়ে আছে যত কথা...
এই বন্ধনে থাকো চিরকাল জড়িয়ে,
ভুলেও যেও না, কখনো ব্যথা!"
কবিতার লাইন শেষ হতেই সারা হল করতালিতে ফেটে পড়ল। কিন্তু রূপার চোখ শুধু এক দিকেই ছিল—রাফির দিকে।
রাফিও তাকিয়ে ছিল, মনে মনে হয়তো সে-ও একই কথা ভাবছিল...
চলবে........