Top News

চিঠির শেষ লাইন পর্ব ৪

চিঠির শেষ লাইন

পর্ব ৪: চিঠির শেষ লাইন

আয়মান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। রাইসার চোখে অশ্রু জমে, বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করে। সে জানে, অতীতের কষ্ট এখনও তাদের মাঝে চুপচাপ অবস্থান করছে, তবে কি তা অতিক্রম করা সম্ভব?

রাইসা ধীরে ধীরে আয়মানের দিকে এগিয়ে আসে। তার চোখে নৈকট্য চায়, আর শরীরের প্রতিটি অংশ যেন আবার পুরনো অভ্যস্ততাকে আবিষ্কার করতে চাইছে।

"আমার কাছে তুমি এখনও আগের মতোই আছো, আয়মান," সে কাঁপানো কণ্ঠে বলে। "কিন্তু জানো, এতদিন পর ফিরে এসে আমি আর তোমাকে সেই আগের মতো পাইনি।"

আয়মান গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বলে, "আমিও তোমাকে হারিয়েছি, রাইসা। কিন্তু এর মধ্যে অনেক সময় চলে গেছে। আমরা যেভাবে থাকতাম, সেই সম্পর্ক ফিরে আসা কি সম্ভব?"

রাইসার চোখে এক ধরনের অস্থিরতা, এক ধরনের দীর্ঘশ্বাস ওঠে, যেন বহু বছর ধরে চেপে রাখা কোনো কষ্ট আজ উঠে আসতে চলেছে।

"আমি জানি, আমি জানি যে আমি তোমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু সেই সব কিছুই তোমাকে হারানোর ভয় থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম," সে স্বীকার করে। "আমার পরিবার, তাদের চাপে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন থেকেই চলে গিয়েছি, আমি জানি, আমি কি ভুল করেছিলাম। আর এখন ফিরে আসতে চাই—কিন্তু জানি, সব কিছু সহজ নয়, তোমার কাছে... আমাদের মধ্যে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তাকে কি কখনো সঠিকভাবে মেরামত করা সম্ভব?"

আয়মান চুপ করে থাকে। তার চোখে সেই পুরনো কষ্ট ফুটে ওঠে। সেই সব দিনগুলো, যখন তারা একে অপরকে এত গভীরভাবে ভালোবেসেছিল।

সত্যি বলতে, আজকাল সে নিজেও জানে না—তাদের সম্পর্ক কি আগে মতো আর হতে পারে? রাইসার চলে যাওয়ার পর তার মন একেবারে শূন্য হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দিনই সে রাইসাকে মনে করেই চিঠি লিখত, কিন্তু সে কখনো পাঠাতে পারেনি। সে জানতো, এই চিঠিগুলো শুধু তার নিজের একার জন্য।

রাইসা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আয়মানের জীবন স্থির হয়ে গিয়েছিল। কিছুই আর আগের মতো ছিল না। তবে আজ, এত বছর পর, সে আবার তার সামনে দাঁড়িয়ে, তাকে একটা নতুন সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কি করবে সে?

রাইসা যদি এবার সত্যি ফিরে আসে, তাহলে কি সে তার কাছে আবার জায়গা পাবে? কি হবে তাদের সম্পর্কের পরিণতি?

আয়মান একপাল চুল হাতে নিয়ে কিছু সময় চুপ করে থাকল। তার হৃদয়ের গভীরে প্রশ্ন উঠে—"আমি কি আমার পুরনো অনুভূতিগুলো আবার জাগিয়ে তুলতে পারব?"

রাইসা ধীরে ধীরে আয়মানের কাছে আসে। তার চোখে কষ্ট, কিন্তু আশা।

"যদি তুমি আমার জন্য কিছু জায়গা রেখো, আয়মান, আমি তোমার পাশে থাকতে চাই। আমার আর কিছুই প্রয়োজন নেই, শুধু তুমি।"

আয়মান ধীরে ধীরে মাথা তুলল। তার চোখে এখনো কিছু অবিশ্বাস, কিন্তু সেই চোখে এক ধরনের কোমলতা, মায়া, আবার কিছু পুরনো আবেগও ফিরে আসে।

সে চিঠির খামের দিকে তাকায়, যেখানে সাদা কাগজে রাইসার নাম লেখা ছিল। সে জানে, তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসছে, আর সে বুঝতে পারে যে, অতীতের ক্ষত এখনই সেরে ওঠা সম্ভব নয়। তবে, তারা যদি আবার নতুন করে শুরু করতে চায়, তাহলে সেখানেই তাদের পথ শুরু হবে।

আয়মান গভীর নিঃশ্বাস ফেলে একবার চিঠির শেষ লাইনটির দিকে তাকিয়ে বলে—

"যদি তুমি আবার ফিরে আসো, আমি সব কিছু নতুন করে শুরু করতে রাজি। কারণ, আমার মধ্যে এখনো তোমার জন্য জায়গা আছে।"

এই কথা বলে সে রাইসার দিকে তাকায়, এবং রাইসা তার চোখে নতুন জীবন খুঁজে পায়।

রাইসা আয়মানের দিকে এগিয়ে আসে এবং তার হাত ধরে বলে, "তাহলে শুরু করি, আয়মান।"

আয়মান এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে সে রাইসাকে নিজের কাছ থেকে আঁকড়ে ধরে।

কিছু সময়, দীর্ঘ শ্বাস, দুজনের হৃদয়ের আওয়াজ—এবং তারপর এক মিষ্টি চুম্বন।

এটা ছিল তাদের নতুন শুরু, তাদের গল্পের নতুন অধ্যায়।

এবং সেই চিঠির শেষ লাইন, "যদি তুমি আবার ফিরে আসো, আমি সব কিছু নতুন করে শুরু করতে রাজি।"—এটি ছিল সেই চূড়ান্ত সত্য।

শেষ।


এটি ছিল "চিঠির শেষ লাইন"-এর শেষ পর্ব। আশা করি গল্পটি পছন্দ হয়েছে!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন