Top News

চিঠির শেষ লাইন

চিঠির শেষ লাইন

পর্ব ১: হারিয়ে যাওয়া শব্দ


রাত প্রায় দুটো বাজে। চারদিকে নিস্তব্ধতা। জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা চাঁদের আলো ঘরের মেঝেতে পড়ছে। আয়মান টেবিল ল্যাম্পের নিচে বসে আছে, হাতে ধরা এক টুকরো কাগজ। চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মন শান্ত নেই।

সে আজও লিখছে। প্রতিবারের মতোই।

"প্রিয় রাইসা,"

কলমের কালো কালি কাগজের উপর ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আয়মান থেমে যায়। এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলে, তারপর চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। যেন হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা শত শত কথার ভার সে এক নিমেষে কাগজে ঢেলে দিতে চায়, কিন্তু পারছে না।

এটি তার প্রথম চিঠি নয়।

সে প্রতি বছর ঠিক এই দিনে রাইসার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে। কিন্তু কখনোই পাঠায় না।

তার ড্রয়ার খুললে দেখা যাবে, ঠিকমতো সাজানো একগাদা চিঠি। পুরনো, কিছুটা হলদেটে হয়ে যাওয়া কাগজ। প্রতিটা চিঠি ভালোবাসায় মোড়া, কিন্তু কোথাও যেন একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে।

আজকের চিঠিটাও বাকি চিঠিগুলোর মতোই।

সে লিখতে থাকে—

"তুমি কেমন আছো, জানি না। হয়তো খুব ভালো, অথবা হয়তো জীবনের ব্যস্ততায় আমাকে ভুলেই গেছো। জানো, আমি তোমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলাম, বহু বছর আগে… কিন্তু বলা হয়নি। তাই প্রতি বছর এই দিনে তোমার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখি। লিখি, কিন্তু কখনোই পাঠাই না।"

কলম থেমে যায়। আয়মান জানে, এই চিঠিও বাকি চিঠিগুলোর মতো ড্রয়ারে জমা হবে।

ড্রয়ার খুললেই একগাদা চিঠি দেখা যাবে—সবগুলোই রাইসার নামে লেখা, কিন্তু একটাও তার হাতে পৌঁছায়নি।

আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, এক ঝড়ের রাতে, রাইসা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কেন? সেটাও সে জানে না।

সেদিনের পর থেকে আয়মান কখনো রাইসার খোঁজ নেয়নি, নিতে পারেনি। কিন্তু মনে মনে প্রতিবার এই দিনে সে ঠিকই তাকে খুঁজে ফেরে।

আজকের চিঠির শেষ লাইন সে লিখবে কি না, তা আয়মান জানে না।

সে জানে, চিঠির শেষ লাইনটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ… কিন্তু এই এক লাইনই সে কোনো দিন লিখতে পারেনি।

(চলবে…)


পরবর্তী পর্বে:
রাইসা কি কখনো এই চিঠিগুলো খুঁজে পাবে? নাকি আয়মান চিরকাল এই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই থাকবে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন