সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

🌙 আমার হৃদয়ের চাঁদ 🌙

🌙 আমার হৃদয়ের চাঁদ 🌙                                                                                  (  আব্দুস সামী )  চাঁদ উঠেছে নীল আকাশে, জোছনা ঢালে রাতে, সবাই দেখে হাসিমুখে, উৎসবে মাতোয়ারাতে। তবু আমার আকাশখানি অন্ধকারে ভরা, যে চাঁদ আমার আপন ছিল, সে যে আজো পরা। আলোর মাঝে আঁধার কেন, প্রশ্ন জাগে মনে, তোমার ছাড়া ঈদ যে শুধু শূন্যতারই বনে। যদি পারো ফিরে এসো, এই মনের আঙিনায়, তাহলেই তো ঈদ হবে, পূর্ণতার গান গায়। ✨✨✨✨✨✨ঈদ মোবারক ✨✨✨✨✨✨

ঈদের চাঁদ, একলা মন

ঈদের চাঁদ, একলা মন প্রেম, পরিবার আর বাধার গল্প রাতুল আর মেহনাজ। দু’জন একসঙ্গে স্কুলে পড়ে, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখে, একসঙ্গে পথ চলতে চায়। ওরা দু’জনেই এই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কেবল পড়ালেখাই নয়, দু’জনের মধ্যে একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসা তো সবসময় সহজ পথ ধরে হাঁটে না। ওদের সম্পর্কটা যখন পরিবার জানতে পারে, তখনই সবকিছু বদলে যেতে থাকে। রাতুলের মা-বাবা কড়া ধরণের মানুষ। তাদের কাছে ছেলের প্রেম-ভালোবাসা মানেই পথভ্রষ্ট হওয়া। আর মেহনাজের পরিবার? তারাও খুব রক্ষণশীল। মেয়ের স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকলেও, ভালোবাসার অধিকার নেই। দু’জনকে আলাদা করে দেওয়া হলো। কোনোভাবেই যেন ওরা আর যোগাযোগ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা হয়ে গেল। দূরত্বের দিনগুলো প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হচ্ছিল দু’জনের। ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, দেখা করা তো দূরের কথা। তবে রাতুল সবসময়ই একরকম পথ খুঁজে বের করতো। কখনো বন্ধুর ফোন থেকে মেহনাজের খবর নেওয়ার চেষ্টা করতো, কখনো স্কুলে দূর থেকে ওকে দেখার চেষ্টা করতো। কিন্তু ধীরে ধীরে কষ্ট জমতে লাগলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সবকিছুই বদলে যেতে থাকলো। এভাবেই কেটে গেল কয়েকটা মাস। তারপর এল স...

ঈদ মোবারক 🌙🌙🌙

1.নিশির চাঁদ হাসে, বাতাসে খুশির সুর, ঈদের আনন্দে ভরে উঠুক সকলের পুর! মনের আকাশ জুড়ে থাকুক শান্তির আলো, ঈদ মোবারক! শুভেচ্ছা রইলো অসীম ভালোবাসায় ঢালো। ✨ ঈদ মোবারক! ✨ 2.চাঁদের আলোয় ঝলমলে রাত, ঈদের খুশি ছড়িয়ে যাক। হাসি-আনন্দ, ভালোবাসায়, ভরে উঠুক সবার মনপ্রাণে। ✨ ঈদ মোবারক! ✨ 3.চাঁদের আলো, খুশির বাঁধন, ঈদ আনুক শান্তির স্পন্দন! ✨ ঈদ মোবারক! ✨

চিঠির শেষ লাইন পর্ব ৩

চিঠির শেষ লাইন পর্ব ৩: মুখোমুখি সত্য বাইরে তখনো ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে। আয়মান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাইসার দিকে তাকিয়ে আছে—অবিশ্বাস আর বিস্ময়ের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে। পাঁচ বছর পর, হঠাৎ করে সে ফিরে এসেছে! রাইসার চোখে ক্লান্তি আর একরাশ অস্থিরতা। ভিজে চুলগুলো কপালে লেপ্টে গেছে। ঠোঁট কাঁপছে, যেন কিছু বলতে চায়, কিন্তু পারছে না। আয়মান কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকার পর অবশেষে বলে— "ভিতরে আসবে?" রাইসা মাথা নিচু করে ভেতরে ঢোকে। আয়মান তার জন্য এক কাপ গরম চা এনে দেয়, কিন্তু সে ছুঁয়েও দেখে না। অবশেষে, রাইসাই প্রথম কথা বলে। "কেমন আছো, আয়মান?" এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যেন খুব কঠিন হয়ে পড়ে আয়মানের জন্য। এতদিনের জমে থাকা কষ্ট, অভিমান, এবং শূন্যতা একসাথে মনের মধ্যে ঝড় তোলে। তারপরও শান্ত গলায় সে বলে, "ভালো আছি। অন্তত থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু তুমি হঠাৎ এভাবে… কেন?" রাইসা মাথা নিচু করে থাকে কিছুক্ষণ, তারপর ধীরে ধীরে বলে— "তুমি আমাকে ভুলে গেছো ভেবেছিলাম। আমি চাইতাম তুমি ভুলে যাও, সুখে থাকো…" আয়মান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে। "ভুলে যাই? এটা কি এত সহজ? রাইস...

চিঠির শেষ লাইন পর্ব ২

  চিঠির শেষ লাইন পর্ব ২: ফেলে আসা সময় আয়মান অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। চিঠির শেষ লাইন আজও অসম্পূর্ণ। পাঁচ বছর ধরে প্রতিবার সে চিঠি লেখে, কিন্তু কোনোবারই সাহস করে পাঠাতে পারেনি। কেন? কারণ হয়তো ভয়, হয়তো অনিশ্চয়তা। সে জানে না, রাইসা এখন কোথায় আছে, কেমন আছে। কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চিত জানে—তার মনের গভীরে এখনো রাইসার স্মৃতি সেই আগের মতোই তাজা। "তুমি কি কোনোদিন আমার চিঠিগুলো পাবে?" নিজের মনে প্রশ্ন করে আয়মান। কিন্তু উত্তর আসে না। ড্রয়ারের ভেতর রাখা চিঠিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে সে। প্রতিটা চিঠির খামের ওপরে সুন্দর করে রাইসার নাম লেখা, কিন্তু কোনো খামে ডাকটিকিট লাগানো হয়নি। (১) পাঁচ বছর আগে… রাইসা আর আয়মান তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র। দুজনেই স্বপ্ন দেখতো একসাথে থাকার, একসাথে পথচলার। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো তখন তাদের জন্য ছিল একেকটা গল্পের পাতা। সন্ধ্যার আকাশের নিচে দুজন হেঁটে বেড়াতো, কথা বলতো নিরন্তর। রাইসার স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়ার। আয়মানের স্বপ্ন ছিল লেখক হওয়া। একদিন ক্যাম্পাসের পুরনো গাছতলায় বসে রাইসা আয়মানকে বলেছিল— "জানো, যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই, তুমি...

চিঠির শেষ লাইন

চিঠির শেষ লাইন পর্ব ১: হারিয়ে যাওয়া শব্দ রাত প্রায় দুটো বাজে। চারদিকে নিস্তব্ধতা। জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা চাঁদের আলো ঘরের মেঝেতে পড়ছে। আয়মান টেবিল ল্যাম্পের নিচে বসে আছে, হাতে ধরা এক টুকরো কাগজ। চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মন শান্ত নেই। সে আজও লিখছে। প্রতিবারের মতোই। "প্রিয় রাইসা," কলমের কালো কালি কাগজের উপর ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আয়মান থেমে যায়। এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলে, তারপর চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। যেন হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা শত শত কথার ভার সে এক নিমেষে কাগজে ঢেলে দিতে চায়, কিন্তু পারছে না। এটি তার প্রথম চিঠি নয়। সে প্রতি বছর ঠিক এই দিনে রাইসার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে। কিন্তু কখনোই পাঠায় না। তার ড্রয়ার খুললে দেখা যাবে, ঠিকমতো সাজানো একগাদা চিঠি। পুরনো, কিছুটা হলদেটে হয়ে যাওয়া কাগজ। প্রতিটা চিঠি ভালোবাসায় মোড়া, কিন্তু কোথাও যেন একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে। আজকের চিঠিটাও বাকি চিঠিগুলোর মতোই। সে লিখতে থাকে— "তুমি কেমন আছো, জানি না। হয়তো খুব ভালো, অথবা হয়তো জীবনের ব্যস্ততায় আমাকে ভুলেই গেছো। জানো, আমি তোমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলাম, বহু বছর আগে… কিন্তু বলা হয়...

নিঃস্বার্থ প্রেম – শেষ পর্ব

নিঃস্বার্থ প্রেম – শেষ পর্ব শুভর জীবনে অনেক দিন কেটে গেছে অরণির মৃত্যুর পর। "অরণি বিদ্যানিকেতন" স্কুলটি আজ অনেক বড় হয়ে উঠেছে, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। শুভ তার কাজের সঙ্গে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, প্রায়ই রাতের পর রাত একা বসে স্কুলের রিপোর্ট দেখতে হয়, স্কুলের ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে হয়। কিন্তু তার হৃদয়ের কোণে, সে জানতো—এইসব কিছুই একা করে সে অরণির স্মৃতিকে সম্মান জানাতে চায়। এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা একদিন, শুভ স্কুলে বসে কাজ করছিল। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনল। —"কী ব্যাপার, এসো।" দরজা খুলে এক পরিচিত মুখ দেখলো শুভ। সেই মুখ—তিন বছর আগে যাকে সে শেষবার দেখেছিল, আজ সেই তার সামনে দাঁড়িয়ে। অরণির ছোটবেলার বন্ধু, শোভা। —"শোভা! তুমিই?" শুভ চমকে উঠল। —"হ্যাঁ, শুভ। দীর্ঘদিন পর দেখা। তুমি তো অনেক বদলে গেছ।" শুভ হাসল, কিন্তু তার চোখে বিষণ্ণতা ছিল। —"কেমন আছো, শোভা?" —"ভালো আছি, তবে জানো, অরণির জন্য অনেক কিছু বলার ছিল। তুমি জানো না, সে সবসময় তোমার কথা ভাবতো।" শুভ চুপ করে রইল। তার গলা কিছুটা ভারী হয়ে উঠেছিল। —...

নিঃস্বার্থ প্রেম – পর্ব ৩

  নিঃস্বার্থ প্রেম – পর্ব ৩ অরণির মৃত্যুর পর শুভর জীবন পুরোপুরি বদলে গেল। বাইরের দুনিয়ায় সে আগের মতোই রইল—একজন দায়িত্ববান স্বামী, একজন যত্নশীল বাবা, একজন সফল কর্মী। কিন্তু ভেতরে? ভেতরে কোথাও একটা শূন্যতা পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিলো। কখনো কখনো গভীর রাতে শুভ জেগে উঠত, মনে হতো দরজায় কড়া নাড়ছে কেউ। ঘুমের ঘোরে মনে পড়ত অরণির হাসি, তার চঞ্চল চোখদুটি। মনে হতো, যদি একবার ফিরে যেতে পারত সেই পুরনো দিনে, তাহলে হয়তো গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। অরণির স্মৃতিতে… অরণির মৃত্যুর পর শুভ খুঁজতে শুরু করল তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো। স্কুলে গিয়ে তার ডেস্কে বসে রইল অনেকক্ষণ, দেয়ালে ঝোলানো তার ছবি ছুঁয়ে দেখল। সহকর্মীরা বলল, —"অরণি ম্যাডাম বলতেন, জীবনটা অনেক সুন্দর, যদি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারো।" শুভ শুনল, কিন্তু কিছু বলল না। শুধু মনে মনে ভাবল—কেউ যদি ভালোবাসতে চায়, তবে তার কি এভাবে একা চলে যাওয়া উচিত? একদিন সে অরণির পুরনো ফ্ল্যাটে গেল। এখন সেখানে অন্য কেউ থাকে, কিন্তু নতুন বাসিন্দারা জানালো, অরণির কিছু পুরনো জিনিস এখনও তাদের কাছে আছে। একটা ছোট বাক্স এনে দেওয়া হলো শুভকে। সে ধীরে ধীরে বাক্সের ঢ...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ৭

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ৭: পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, এবং এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা...) ১ রাফি আর রূপা ঠিক করল, তাদের ভালোবাসার কাছে কোনও বাধা আর থাকবে না। পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না—তবে তা আর তাদের থামাতে পারবে না। তারা জানত, একে অপরকে ছাড়া আর বাঁচা সম্ভব নয়। রূপা একদিন রাফির কাছে এসে বলল, — "আমরা যদি পালিয়ে যাই? কোথাও চলে যাই, যেখানে আমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়?" রাফি কিছু না বলে, এক পা এগিয়ে গিয়ে রূপাকে চোখে চোখ রেখে বলল, — "তুমি যদি বলো, আমি এক মুহূর্তও সময় নেব না। তুমি আর আমি, দুজনে একে অপরের কাছে... সবকিছু রেখে পালিয়ে যাব।" এই কথাগুলো যেন একসাথে সারা জীবনের জন্য তাদের সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত হয়ে গেল। ২ পরিবারের কাছে তারা যা চাইছিল, তা পাওয়া সম্ভব ছিল না। তাদের প্রেমকে কোনভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। সুতরাং, সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো— পালিয়ে যাওয়া। রূপা, তার পরিবারকে বোলার সাহস করছিল না। রাফির বাড়ির সদস্যরা আগেই সম্পর্কটা জানত, তবে তারা বুঝতে পারছিল না রাফি এতটা এগিয়ে যাবে। তবে শেষপর্যন্ত, তাদের বন্ধন তাদের একত্রিত করার জন্যই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। এদ...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ৬

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ৬: আগের মতো ফিরে আসা...) ১ রূপা আর রাফির মধ্যে এতদিন যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেই দূরত্বকে ভেঙে ফেলার একমাত্র উপায় ছিল তাদের হৃদয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক গভীর আকাঙ্ক্ষা। তারা একে অপরকে ছেড়ে যেতে পারেনি, যদিও বাস্তবতা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রূপার বাড়ির অবস্থাও আর আগের মতো ছিল না। তার বাবা-মা তাদের সম্পর্ক নিয়ে চুপ থাকলেও, তাদের চোখের মধ্যে অসন্তুষ্টি ছিল। রূপা জানত, সবার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলা কিংবা করার সাহস আর নেই। তবে তার একটিই আশ্বাস ছিল— রাফি, তার ভালোবাসা, কখনোই হারিয়ে যায়নি। রাফি একদিন রাতে নিজের মনোভাব ঠিক করে ফেলল। সে জানল, কষ্ট ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। যদি সত্যি ভালোবাসে, তবে সেই ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে তার সব কিছুই বলার সাহস থাকতে হবে। ২ এদিন, বিকেল বেলায়, রূপা আবার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার সে জানালা বন্ধ রেখেছিল, যেন কেউ দেখতে না পায়। রাফি মৃদু পদক্ষেপে ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। রূপা যখন জানালা থেকে নিচে তাকাচ্ছিল, তখনই সে তার নাম ভেঙে ডাকল, — "রূপা!" রূপা চমকে উঠল। সে জানত, একদিন রাফি আসবে। হৃদয়ের তাড়া তাকে আবার পথ...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ৫

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ৫: আবার দেখা... কিন্তু!) ১ রূপা দেশে ফিরে এসেছে, কিন্তু তার জীবন আর আগের মতো নেই। পরিবারের সবাই ভীষণ রাগান্বিত। বাবা-মা তাকে প্রায় বন্দির মতো রেখে দিয়েছে—কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয় না, বাইরে যেতে দেয় না। রূপা জানত, এই পরিস্থিতি সহজে বদলাবে না। কিন্তু একটা প্রশ্ন বারবার ওর মনে আসছিল— রাফি কি জানে যে সে দেশে ফিরে এসেছে? সে কি জানার চেষ্টা করছে? রূপা অনেকবার ফোন করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভয় করত। যদি রাফি ভুল বুঝে? যদি ভাবে, সে নিজেই বিয়ে করতে চেয়েছিল? অন্যদিকে, রাফির জীবনও বদলে গেছে। সে রূপার বিয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই নিজেকে বদলে ফেলেছে—নিজের চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে নিয়েছে। বন্ধুরা বলত, — "তুই কি কখনো রূপাকে ভুলতে পারবি?" রাফি শুধু ম্লান হেসে বলত, — "ভুলে যাওয়ার মতো জিনিস যদি থাকত, তাহলে হয়তো পারতাম..." ২ একদিন হঠাৎ করেই রূপার বান্ধবী মিথিলা রাফির সামনে এসে দাঁড়াল। — "রূপা দেশে ফিরেছে।" রাফি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারল না। — "কী বললে?" — "হ্যাঁ। বিয়ে হয়নি। কিন্তু ও এখন বন্দির মতো আছে। কিছু করো, প্লি...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ৪

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ৪: বিচ্ছেদ, বিয়ে ও ফিরে আসা!) ১ রূপার চলে যাওয়ার পর রাফির জীবনটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল। স্কুল শেষ হয়ে গেল, পড়াশোনা চলতে থাকল, কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটা কম ছিল—একটা শূন্যতা, একটা অপূর্ণতা। রূপা মাঝে মাঝে দেশে ফোন করত, কিন্তু রাফির সঙ্গে কথা হতো না। তার পরিবার চাইত না এই সম্পর্কটা থাকুক। রাফিও কখনো主动 করে যোগাযোগ করেনি। কিন্তু ভালোবাসা কি কখনো দূরত্ব মেনে নেয়? ২ একদিন হঠাৎ রাফির বাড়িতে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটল। রাতে বাবা-মা রাফিকে ডেকে বললেন, — "তোর আর রূপার সম্পর্কের কথা আমরা জানি।" রাফি চমকে গেল। — "কে বলল?" — "এটা জানার জন্য কাউকে লাগবে না! তোর চেহারায়ই লেখা আছে!" রাফি মাথা নিচু করে থাকল। বাবা কড়া গলায় বললেন, — "এ সম্পর্ক নিয়ে যেন আর কোনো স্বপ্ন না দেখিস। রূপার পরিবার ওকে দেশের বাইরে পাঠিয়েছে, তারা এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। আর তোরও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা উচিত!" রাফি চুপ। সে জানত, পরিবারের সঙ্গে তর্ক করে লাভ নেই। কিন্তু পরদিনই সে এমন একটা খবর পেল, যা ওর হৃদয় ভেঙে দিল। ৩ রূপার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে! তার পর...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ৩

   ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ৩: না বলা কথারা...) ১ স্কুলজীবনের দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো কাটছিল রাফি আর রূপার। কিন্তু জীবনের গল্প তো আর একই ছন্দে চলতে থাকে না। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সম্পর্ক, অনুভূতি, বাস্তবতা। একদিন বিকেলে স্কুলের মাঠে বসে রাফি আর রূপা গল্প করছিল। হঠাৎ রূপা বলল, — "রাফি, একটা কথা বলব?" রাফি তাকিয়ে রইল ওর দিকে। রূপার চোখে কেমন যেন অস্থিরতা। — "বলো।" রূপা গভীর শ্বাস নিল, যেন নিজেকে প্রস্তুত করছে। তারপর বলল, — "আমার বাবা-মা চায়, আমি এই বছর স্কুল শেষ করেই দেশের বাইরে চলে যাই।" রাফির বুকের ভেতর ধাক্কা লাগল। — "বাইরে? কোথায়?" — "লন্ডন। বাবা চান, আমি ওখানে গিয়ে পড়াশোনা করি, নতুন জীবন শুরু করি।" রাফি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এই মুহূর্তটা সে কখনো কল্পনাও করেনি। — "তাহলে তুমি চলে যাচ্ছ?" রূপা চুপ করে থাকল, তারপর আস্তে করে বলল, — "তুমি কি চাইবে আমি যাই?" রাফি মাথা নিচু করে ফেলল। মনের মধ্যে যেন হাজারো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সে কি বলবে? সে কি চাইবে রূপা থেকে যাক? কিন্তু বাস্তবতা তো অন্য কথা বলে। — "ত...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন পর্ব ২

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন (পর্ব ২: হৃদয়ের ভাষা) ১ স্কুলজীবনের দিনগুলো যেন রাফি আর রূপার জন্য স্বপ্নের মতো কাটছিল। তারা একসঙ্গে ক্লাস করত, একসঙ্গে পড়ত, লাইব্রেরিতে পাশাপাশি বসে গল্পের বই পড়ত। বন্ধুত্বের সীমা কখন যে ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে, তারা বুঝতেও পারেনি। একদিন বিকেলে স্কুল ছুটির পর রূপা গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে যেন কেমন একটা দ্বিধা। রাফি খেয়াল করল। — "কি হলো? কোথাও যেতে হবে?" রূপা একটু ইতস্তত করে বলল, — "একটা কথা বলব, রাফি..." রাফি থমকে গেল। রূপার কণ্ঠস্বরে অদ্ভুত এক আবেগের ছোঁয়া। — "বলো।" রূপা একটু হেসে বলল, — "আমাদের স্কুলজীবন শেষ হওয়ার পর... মানে, আমরা কি তখনও এমন থাকব?" রাফি একটু অবাক হলো। — "মানে?" — "মানে, আমরা কি তখনও বন্ধু থাকব? নাকি... এর চেয়েও বেশি কিছু?" এই প্রথমবার রূপার মুখ থেকে সরাসরি এমন কথা শুনল রাফি। সে জানত যে তার নিজের হৃদয়ের গভীরেও একই অনুভূতি আছে। কিন্তু বলার সাহস কখনও হয়নি। সে ধীরে ধীরে বলল, — "আমি জানি না ভবিষ্যৎ কী হবে। কিন্তু আমি জানি, আমি চাই তুমি সবসময় আমার পাশে থাকো।...

ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন

  ভালবাসা আর সময়ের বাঁধন ( পর্ব ১: পরিচয় ও প্রেমের শুরু) বৃষ্টি হচ্ছিল টিপটিপ করে। আকাশটা মেঘে ঢাকা, কিন্তু স্কুলের মাঠে সেই কোলাহল। ক্লাসের ফাঁকে কেউ ক্রিকেট খেলছে, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। নবম শ্রেণির ছাত্র রাফি, বরাবরই চুপচাপ স্বভাবের। বন্ধুদের সঙ্গে তেমন মিশত না, বরং খেলার মাঠের এক পাশে বসে বই পড়তে বেশি পছন্দ করত। সেইদিনও তাই করছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে চোখ পড়ল। লম্বা চুল, হালকা গোলাপি রঙের সালওয়ার কামিজ, কপালের মাঝখানে ছোট্ট একটা টিপ। মেয়েটা নতুন, আগে কখনো দেখেনি। হাতে খোলা একটা বই নিয়ে সে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন কারও জন্য অপেক্ষা করছে। — "নতুন এসেছ?" মেয়েটা চমকে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হাসল। — "হ্যাঁ। আমি রূপা। তোমরা কি সবাই এত চুপচাপ থাকো?" রাফি একটু অপ্রস্তুত হলো। — "না, সবাই না। আমি থাকি।" রূপা হাসল। — "তাহলে তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে?" এই প্রথমবার কোনো মেয়ে সরাসরি বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিল তাকে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, — "হুম, পারো।" সেদিনের সেই ছোট্ট কথোপকথন ছিল তাদের গল্পের শু...

বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ৪ (শেষ পর্ব)

  বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ৪ (শেষ পর্ব) কৌশিক আর অর্পিতার জীবনের গল্পটা যেন এক চিরকালীন যাত্রা। তারা একে অপরকে ভালোবাসার, শ্রদ্ধা করার, এবং সব কিছুর মধ্যে একে অপরকে বোঝার শিক্ষা পেয়েছিল। তাদের জীবনে অনেক তিক্ত মুহূর্ত ছিল, কিন্তু তারা একে অপরকে ফিরে পেয়েছিল। জীবন শুরু হয়েছিল নতুনভাবে, যেখানে তারা একে অপরের পাশে ছিল, সুখ-দুঃখে একে অপরকে সমর্থন দিচ্ছিল। কিন্তু জীবনের চিরন্তন সত্য, কেউ না কেউ চলে যায়। অপ্রত্যাশিত অন্ধকার একদিন, কৌশিক কাজ থেকে ফিরে এসে অর্পিতার ফোনে বার্তা পেল—“অর্পিতা অসুস্থ, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।” প্রথমে কৌশিক ভাবতে পারেনি, তার মাথায় কোনো চিন্তা আসছিল না। এটি ছিল এক অনির্দেশিত খবর, যা তার জীবনের সমস্ত আনন্দ মুছে ফেলেছিল। কৌশিক তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে জানান, অর্পিতার অবস্থার অবনতি ঘটেছে। তার শরীরে এক দুর্বিপাক রক্তরোগ সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এবং চিকিৎসকরা জানালেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। কৌশিকের মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীটাই থেমে গেছে। সে জানতো, অর্পিতা তার জীবনের এক অমূল্য রত্ন। তাদের সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল অনেক মূল্যবান। কি...

বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ৩

  বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ৩ কৌশিক এবং অর্পিতার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেক কিছু ছিল যা তাদের সামনে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। সম্পর্কের পুনর্গঠন একটি দীর্ঘ, কঠিন পথ, এবং তাদের জন্য এটি সহজ ছিল না। আগের সময়ে একে অপরকে চেনা, সমঝোতা, এবং সম্পর্কের গভীরতা তৈরি করা—সবকিছু আবার নতুন করে করতে হচ্ছিল। তবে একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরকে বোঝা, এবং শ্রদ্ধা—এই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। নতুন বাধা যতই সময় চলে আসছিল, ততই তারা বুঝতে পারছিল যে সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা দিয়ে চলতে পারে না। জীবনের বাস্তবতা, কাজের চাপ, পরিবার—এসব সবই তাদের জীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছিল। কৌশিক এখন নতুন দায়িত্বের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিল, এবং অর্পিতার কাজের ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছিল। তবে এইসব চাপের মধ্যে তাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি। তবে সময়ের চাপ ছিল, যা মাঝে মাঝে তাদের মাঝে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি করত। তাদের মধ্যে ছোটখাটো তর্ক এবং ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়েছিল। একদিন, কৌশিক অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এসে খুব ক্লান্ত ছিল। সে বলল, “অর্পিতা, তোমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি এখন খুবই পরিশ্...

বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ২

  বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা – পর্ব ২ কৌশিক এবং অর্পিতার সম্পর্কের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছিল সেই দীর্ঘ সময়ের পর যখন তারা একে অপরকে হারিয়েছিল। কিছু সম্পর্কের মাঝে এক ধরনের শক্তি থাকে যা কখনো মুছে যায় না, শুধু সময়ের প্রয়োজন হয়। তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই হয়েছিল—বিচ্ছেদ ছিল অস্থায়ী, আর ফিরে আসা ছিল চিরকালীন। নতুন শুরু, পুরনো স্মৃতি কৌশিক এবং অর্পিতার সম্পর্কের শুরুটা আবার খুব সহজ ছিল না। তাদের মধ্যে অনেক বাধা, অনেক ভুল বোঝাবুঝি ছিল। প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, হয়তো তারা একে অপরকে ঠিক মতো বুঝতে পারবে না। তবে যেহেতু তাদের মধ্যে ছিল এক অদৃশ্য টান, তারা একে অপরকে জানার চেষ্টা করতে থাকল। অর্পিতার কাছে কৌশিক এখন এক নতুন মানুষ—তাকে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের ভালোবাসার গুণাবলি বোঝাতে হয়েছিল। কৌশিক জানত, এই সম্পর্কের পুনর্নির্মাণে সময় লাগবে, কিন্তু সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, এইবার আর কোনো ভুল হবে না। এবার তাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল এক ধরনের সম্মান এবং বিশ্বাস। প্রথমবারের মতো, তারা একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে শোনার চেষ্টা করছিল। ছোট ছোট কথা, মজার মুহূর্ত, সেই পুরনো স্মৃতিগুলো—সব কিছু আবার নতুনভাবে দেখা হচ...

বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা

  বিচ্ছেদ আর ফিরে আসা কিছু সম্পর্ক শুরু হয় পূর্ণতা আর ভালোবাসার সাথে, আর কিছু সম্পর্ক শুরু হয় একে অপরকে বোঝার চেষ্টা দিয়ে। সারা জীবন ব্যস্ততার মাঝে, আমরা ভুলে যাই যে কিছু মানুষ আমাদের জীবনে চিরকাল থাকতে চায়। কিন্তু কখনো কখনো জীবনের পথ এতই মোড় নেয়, যে আমরা একে অপরকে হারিয়ে ফেলি। প্রথম পরিচয় অর্পিতা আর কৌশিকের পরিচয় ছিল কলেজে। প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল, তারা একে অপরকে আগে থেকেই জানে। তাদের মধ্যে একটি অদৃশ্য বন্ধন ছিল, যেন দুজনেই একে অপরের জন্য তৈরি হয়েছিল। তাদের সম্পর্ক ছিল সহজ, স্বাভাবিক। কৌশিকের হাসি, অর্পিতার স্নিগ্ধতা—একসাথে সময় কাটানো, একে অপরকে জানার জন্য অনেক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কিন্তু কোনোদিন মনে হয়নি যে তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব আসবে। তবে জীবন তো কোনো এক সমুদ্রের মতো—একসময় শান্ত থাকে, আর একসময় উত্তাল। বিচ্ছেদ একদিন, কলেজ শেষ হয়ে গেল। কৌশিকের কাজের জন্য তাকে শহরের বাইরে চলে যেতে হলো। অর্পিতা তখনো শিক্ষার্থীর জীবন কাটাচ্ছিল। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখত, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দূরত্ব বাড়তে শুরু করল। ফোনের কথা, চিঠি, ভিডিও কল—সব কিছুই ধীরে ধীরে কমে গেল। একদিন, কৌশিক একরকম...

নিঃস্বার্থ প্রেম – পর্ব ২

নিঃস্বার্থ প্রেম – পর্ব ২ শুভ সেদিন রিইউনিয়ন থেকে ফিরে আসার পর সারারাত ঘুমোতে পারেনি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে বারবার অরণির কথাগুলো মনে পড়ছিল। "জীবনে বিয়েটাই সব না, শুভ!" সত্যিই কি তাই? তাহলে কেন অরণির চোখের গভীরে চাপা একটা বেদনা ছিল? শুভ জানত, কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। অরণির জীবন শুভর বিয়ের পর অরণি নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে নিয়েছিল। একটা স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছিল সে, বাচ্চাদের পড়ানোর মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিল। সে বুঝে গিয়েছিল, জীবনের সব গল্প প্রেম আর সংসারে শেষ হয় না—কারও গল্প লেখা হয় নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অধ্যায়ে। স্কুলের বাচ্চারা ছিল অরণির নতুন পরিবার। তাদের হাসি, দুষ্টুমি, আর ছোট ছোট জিজ্ঞাসাগুলোই ছিল তার জীবনের রঙ। কিন্তু মাঝে মাঝে, একলা রাতে, শুভর কথা মনে পড়তো। হয়তো ভাবতো, যদি একবার বলতো, তাহলে কি গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো? শুভর উপলব্ধি শুভের জীবন বাইরে থেকে সুখী মনে হলেও, ভেতরে কোথাও যেন একটা শূন্যতা ছিল। তার স্ত্রী মেহুল ভালো মানুষ, তাদের একটা ফুটফুটে ছেলেও আছে, কিন্তু কোথায় যেন একটা শীতলতা লেগে থাকে সম্পর্কটায়। মেহুল ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি...

নিঃস্বার্থ প্রেম

নিঃস্বার্থ প্রেম শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা ক্যাফে। ভেতরে নরম হলুদ আলো, চারপাশে গুনগুন করে বাজছে সুরেলা সংগীত। জানালার ধারে বসে আছে অরণি। তার হাতের কফিটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, কিন্তু সে খেয়ালই করেনি। চোখ দুটি স্থির হয়ে আছে ক্যাফের দরজার দিকে। হঠাৎ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো শুভ। বহু বছর পর দেখা, অথচ মনে হলো যেন এই তো সেদিন শেষবার কথা হয়েছিল। শুভর মুখে হাসি, হাতে একটা উপহার। —"অরণি! কেমন আছো?" অরণি একটু হাসলো, সেই চিরচেনা মায়াভরা হাসি। —"ভালো। তুমি?" শুভ বসে পড়লো তার সামনে। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকলো, যেন হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনে। প্রথম পরিচয় অরণি আর শুভর প্রথম দেখা কলেজের ক্লাসরুমে। শুভ ছিল শান্ত, ভদ্র, আর একদম সিরিয়াস ধরনের ছেলে। আর অরণি? সে ছিল পুরো উল্টো—সবসময় চঞ্চল, হাসিখুশি। প্রথম দিনই দুইজনের একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। শুভ ভেবেছিল, অরণি একটু বেশি বাচাল। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারলো, এই মেয়েটার ভেতরে আছে অদ্ভুত এক উষ্ণতা, একরকম আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা। বন্ধুত্ব গভীর হতে বেশি সময় লাগেনি। ক্লাসের পরে লাইব্রেরিতে বসে পড়া, ক্যান্টিনে একসঙ্গে চা খাওয়া, কলেজের প্রাঙ্...